একুশে: ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন: প্রশ্ন ও উত্তর
প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা পড়ুন।
1. ১৯৪৮ সালের মার্চে ঢাকার এক জনসভায় কে ঘোষণা করেন যে উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা?
- A. লিয়াকত আলী খান
- B. মুহম্মদ আলী জিন্নাহ
- C. খাজা নাজিমুদ্দিন
- D. নূরুল আমিন
উত্তর: মুহম্মদ আলী জিন্নাহ
মুহম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এই ঘোষণা দেন এবং ২৪ মার্চ কার্জন হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে তা পুনরাবৃত্তি করেন। উপস্থিত ছাত্ররা তাৎক্ষণিকভাবে ‘না, না’ বলে প্রতিবাদ জানায়, যা ছিল আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়।
2. ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বরে প্রতিষ্ঠিত কোন সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রথম বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি তোলে?
- A. তমদ্দুন মজলিস
- B. ছায়ানট
- C. উদীচী
- D. মুসলিম সাহিত্য সমাজ
উত্তর: তমদ্দুন মজলিস
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাসেম ১৯৪৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর তমদ্দুন মজলিস প্রতিষ্ঠা করেন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই সংগঠনটি ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা: বাংলা না উর্দু?’ নামে পুস্তিকা প্রকাশ করে, যা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রথম প্রকাশ্য দাবিগুলোর একটি।
3. ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তান গণপরিষদে ইংরেজি ও উর্দুর পাশাপাশি বাংলা ব্যবহারের প্রস্তাব তোলেন কে?
- A. এ কে ফজলুল হক
- B. মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী
- C. ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
- D. হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী
উত্তর: ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত
পূর্ববঙ্গের সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে গণপরিষদে বাংলাকে অন্যতম ভাষা হিসেবে ব্যবহারের সংশোধনী প্রস্তাব আনেন, কিন্তু তা প্রত্যাখ্যাত হয়। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাঁকে হত্যা করে।
4. ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি ঢাকার পল্টন ময়দানে কার ‘উর্দুই হবে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা’ ঘোষণায় আন্দোলন আবার বেগবান হয়?
- A. লিয়াকত আলী খান
- B. খাজা নাজিমুদ্দিন
- C. আইয়ুব খান
- D. ইস্কান্দার মির্জা
উত্তর: খাজা নাজিমুদ্দিন
তৎকালীন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন ১৯৫২ সালের ২৭ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে এই ঘোষণা দেন। এর প্রতিক্রিয়ায় সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়, যা ২১ ফেব্রুয়ারি প্রদেশজুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেয়।
- বিজ্ঞাপন
5. ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলার সভায় ছাত্ররা সরকারের কোন আদেশ ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নেয়?
- A. সামরিক আইন
- B. সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত কারফিউ
- C. জরুরি অবস্থা
- D. ১৪৪ ধারা
উত্তর: ১৪৪ ধারা
সরকার সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করে ১৪৪ ধারা জারি করেছিল, আর আমতলার সভায় ছাত্ররা দশজন দশজন করে মিছিল নিয়ে বেরিয়ে তা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হোস্টেলের কাছে পুলিশ গুলি চালালে রফিক, জব্বার, বরকতসহ অনেকে শহিদ হন।
6. ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটির রচয়িতা কে?
- A. আবদুল গাফফার চৌধুরী
- B. আলতাফ মাহমুদ
- C. শামসুর রাহমান
- D. মুনীর চৌধুরী
উত্তর: আবদুল গাফফার চৌধুরী
১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারির হত্যাকাণ্ডের পরপরই সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী গানটি রচনা করেন। বর্তমানে যে সুরে গানটি গাওয়া হয় তা আলতাফ মাহমুদের করা; ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তিনি শহিদ হন।
7. ১৯৫৩ সালে কারাবন্দি অবস্থায় মুনীর চৌধুরী ভাষাশহিদদের নিয়ে কোন নাটক রচনা করেন?
- A. নীলদর্পণ
- B. রক্তাক্ত প্রান্তর
- C. কবর
- D. চিঠি
উত্তর: কবর
মুনীর চৌধুরী ১৯৫৩ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বসে ‘কবর’ নাটকটি রচনা করেন, এবং কারাগারের ভেতরেই রাজবন্দিরা প্রথম এটি মঞ্চস্থ করেন। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে যে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়, তিনি ছিলেন তাঁদের একজন।
8. ঢাকার কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের নকশাকার কে?
- A. হামিদুর রহমান
- B. মাজহারুল ইসলাম
- C. জয়নুল আবেদিন
- D. সৈয়দ মাইনুল হোসেন
উত্তর: হামিদুর রহমান
ভাস্কর নভেরা আহমেদের সঙ্গে মিলে শিল্পী হামিদুর রহমান কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের নকশা করেন। প্রথম শহিদ মিনারটি ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা এক রাতে নির্মাণ করেছিলেন, কিন্তু পুলিশ কিছুদিনের মধ্যেই তা ভেঙে ফেলে।
9. উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেওয়া পাকিস্তানের প্রথম সংবিধান কত সালে গৃহীত হয়?
- A. ১৯৫৪
- B. ১৯৫৬
- C. ১৯৬২
- D. ১৯৬৯
উত্তর: ১৯৫৬
পাকিস্তানের ১৯৫৬ সালের সংবিধানের ২১৪ অনুচ্ছেদে উর্দু ও বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করা হয়। এর আগে ১৯৫৪ সালে পাকিস্তান গণপরিষদ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
10. আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রস্তাবক প্রবাসী বাংলাদেশি রফিকুল ইসলাম ও আবদুস সালাম কোন দেশে বসবাস করতেন?
- A. যুক্তরাজ্য
- B. যুক্তরাষ্ট্র
- C. অস্ট্রেলিয়া
- D. কানাডা
উত্তর: কানাডা
কানাডার ভ্যাঙ্কুভার প্রবাসী এই দুজন ১৯৯৮ সালে জাতিসংঘে চিঠি লিখে বিশ্বের ভাষা রক্ষায় একটি দিবস পালনের প্রস্তাব দেন এবং ১৯৫২ সালের স্মৃতিতে ২১ ফেব্রুয়ারিকে বেছে নেন। ইউনেস্কোর সাধারণ সম্মেলন ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে।