১৯৪৭-এর পথে: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম: প্রশ্ন ও উত্তর
প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা পড়ুন।
1. ১৮৫৭ সালের ১০ মে কোন সেনাছাউনিতে ব্যাপক সিপাহি অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মহাবিদ্রোহ শুরু হয়?
- A. ব্যারাকপুর
- B. দিল্লি
- C. কানপুর
- D. মিরাট
উত্তর: মিরাট
১৮৫৭ সালের ১০ মে মিরাটের সিপাহিরা বিদ্রোহ করে দিল্লির দিকে যাত্রা করে এবং বৃদ্ধ বাহাদুর শাহ জাফরকে তাদের নেতা ঘোষণা করে। এর আগে, ১৮৫৭ সালের মার্চে, কলকাতার কাছে ব্যারাকপুরে সিপাহি মঙ্গল পাণ্ডে ব্রিটিশ অফিসারদের ওপর হামলা চালিয়েছিলেন।
2. ১৮৮৫ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশনে কে সভাপতিত্ব করেন?
- A. দাদাভাই নওরোজি
- B. উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
- C. সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
- D. এ. ও. হিউম
উত্তর: উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
১৮৮৫ সালের ডিসেম্বরে বোম্বাইয়ে ৭২ জন প্রতিনিধি নিয়ে কংগ্রেসের প্রথম অধিবেশন বসে, যাতে সভাপতিত্ব করেন উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় (ডব্লিউ. সি. ব্যানার্জি)। অবসরপ্রাপ্ত ব্রিটিশ সিভিল সার্ভেন্ট অ্যালান অক্টাভিয়ান হিউম সংগঠনটি প্রতিষ্ঠায় প্রধান ভূমিকা পালন করেন।
3. ১৯০৫ সালে কোন ভাইসরয় বঙ্গভঙ্গ কার্যকর করেন?
- A. লর্ড কার্জন
- B. লর্ড মিন্টো
- C. লর্ড হার্ডিঞ্জ
- D. লর্ড রিপন
উত্তর: লর্ড কার্জন
লর্ড কার্জনের বঙ্গভঙ্গ ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর কার্যকর হয় এবং স্বদেশি ও বয়কট আন্দোলনের সূচনা ঘটায়; এ সময় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঐক্যের প্রতীক হিসেবে রাখিবন্ধনের আহ্বান জানান। ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয় এবং সে বছরই কলকাতা থেকে দিল্লিতে রাজধানী স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত ঘোষিত হয়।
4. ১৯০৬ সালে নিখিল ভারত মুসলিম লীগ কোন শহরে প্রতিষ্ঠিত হয়?
- A. লাহোর
- B. আলীগড়
- C. ঢাকা
- D. লখনউ
উত্তর: ঢাকা
নবাব খাজা সলিমুল্লাহর আয়োজিত এক সম্মেলনে ১৯০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ঢাকায় নিখিল ভারত মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯১৬ সালে লখনউ চুক্তির মাধ্যমে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়।
- বিজ্ঞাপন
5. ১৯১৯ সালের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোন সম্মান ত্যাগ করেন?
- A. নোবেল পুরস্কার
- B. নাইট উপাধি
- C. কাইজার-ই-হিন্দ পদক
- D. অক্সফোর্ডের ডক্টরেট
উত্তর: নাইট উপাধি
১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল অমৃতসরের জালিয়ানওয়ালাবাগে জেনারেল রেজিনাল্ড ডায়ারের নির্দেশে সেনারা নিরস্ত্র জনতার ওপর গুলি চালায়; এর প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ ১৯১৫ সালে পাওয়া নাইট উপাধি ত্যাগ করেন। অসহযোগ আন্দোলনের সময় ১৯২০ সালে মহাত্মা গান্ধী তাঁর কাইজার-ই-হিন্দ পদক ফিরিয়ে দেন।
6. কোন স্থানে এক সহিংস ঘটনার পর ১৯২২ সালে মহাত্মা গান্ধী অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করেন?
- A. চম্পারণ
- B. খেদা
- C. বারদৌলি
- D. চৌরিচৌরা
উত্তর: চৌরিচৌরা
১৯২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বর্তমান উত্তর প্রদেশের গোরক্ষপুর জেলার চৌরিচৌরায় উত্তেজিত জনতা থানায় আগুন দিলে কয়েকজন পুলিশ নিহত হন; আন্দোলন সহিংস হয়ে পড়ায় গান্ধী তা প্রত্যাহার করেন। ভারতে গান্ধীর প্রথম সত্যাগ্রহ ছিল ১৯১৭ সালে বিহারের চম্পারণে, নীলচাষিদের পক্ষে।
7. ১৯৩০ সালের ১২ মার্চ মহাত্মা গান্ধী কোথা থেকে ডান্ডি অভিযান শুরু করেন?
- A. সবরমতী আশ্রম
- B. সেবাগ্রাম আশ্রম
- C. ফিনিক্স সেটেলমেন্ট
- D. টলস্টয় ফার্ম
উত্তর: সবরমতী আশ্রম
গান্ধী ৭৮ জন অনুগামী নিয়ে আহমেদাবাদের সবরমতী আশ্রম থেকে যাত্রা করে ১৯৩০ সালের ৬ এপ্রিল গুজরাট উপকূলের ডান্ডিতে পৌঁছান এবং লবণ আইন ভঙ্গ করেন। এই অভিযানের মধ্য দিয়েই সারা ভারতে আইন অমান্য আন্দোলনের সূচনা হয়।
8. ১৯২৯ সালের ডিসেম্বরে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের কোন অধিবেশনে ‘পূর্ণ স্বরাজ’ (পূর্ণ স্বাধীনতা) প্রস্তাব গৃহীত হয়?
- A. কলকাতা
- B. করাচি
- C. লাহোর
- D. লখনউ
উত্তর: লাহোর
রাভি নদীর তীরে জওহরলাল নেহরুর সভাপতিত্বে লাহোর অধিবেশনে পূর্ণ স্বাধীনতাকে কংগ্রেসের লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৯৩০ সালের ২৬ জানুয়ারি ‘পূর্ণ স্বরাজ দিবস’ পালিত হয়েছিল বলেই ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি ভারতের সংবিধান কার্যকর করা হয়।
9. ১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট কোন শহরে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের সভায় ‘ভারত ছাড়ো’ প্রস্তাব গৃহীত হয়?
- A. মাদ্রাজ
- B. কলকাতা
- C. দিল্লি
- D. বোম্বাই
উত্তর: বোম্বাই
প্রস্তাবটি গৃহীত হয় বোম্বাইয়ের গোয়ালিয়া ট্যাংক ময়দানে (বর্তমান আগস্ট ক্রান্তি ময়দান), যেখানে গান্ধী ‘করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে’ (করো অথবা মরো) আহ্বান জানান। পরদিন ভোরেই গান্ধীসহ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
10. ১৯২৮ সালে ভারতে আসা সাইমন কমিশন বেশিরভাগ ভারতীয় রাজনৈতিক দল কেন বর্জন করে?
- A. এটি ভারতকে দুটি দেশে ভাগের প্রস্তাব দেয়
- B. এতে কোনো ভারতীয় সদস্য ছিলেন না
- C. এর প্রধান ছিলেন স্বয়ং ভাইসরয়
- D. এটি কংগ্রেস নিষিদ্ধের সুপারিশ করে
উত্তর: এতে কোনো ভারতীয় সদস্য ছিলেন না
স্যার জন সাইমনের নেতৃত্বাধীন কমিশনে সাতজন ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য ছিলেন, কোনো ভারতীয় ছিলেন না; তাই কালো পতাকা ও ‘সাইমন ফিরে যাও’ স্লোগানে একে স্বাগত জানানো হয়। লাহোরে এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সময় পুলিশের লাঠিচার্জে আহত হয়ে কয়েক সপ্তাহ পর লালা লাজপত রায় মারা যান।