মহান মুক্তিযুদ্ধ ১৯৭১: প্রশ্ন ও উত্তর
প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা পড়ুন।
1. ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ শেখ মুজিবুর রহমান কোথায় দিয়েছিলেন?
- A. পল্টন ময়দান
- B. রেসকোর্স ময়দান (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান)
- C. বঙ্গভবন
- D. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল
উত্তর: রেসকোর্স ময়দান (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান)
ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ দেওয়া হয় ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে, যা বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নামে পরিচিত। ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ইউনেস্কো এই ভাষণকে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার’-এ বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে।
2. ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পরিচালিত সামরিক অভিযানের সাংকেতিক নাম কী ছিল?
- A. অপারেশন জ্যাকপট
- B. অপারেশন জিব্রাল্টার
- C. অপারেশন ব্লিৎস
- D. অপারেশন সার্চলাইট
উত্তর: অপারেশন সার্চলাইট
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর মাধ্যমে ঢাকায় গণহত্যা শুরু হয়; এ কারণে ২৫ মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালিত হয়। অন্যদিকে ‘অপারেশন জ্যাকপট’ ছিল ১৯৭১ সালের আগস্টে নৌ-কমান্ডোদের সমুদ্র ও নদীবন্দরে পরিচালিত সমন্বিত আক্রমণ।
3. মুজিবনগর সরকার (বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার) কোন তারিখে শপথ গ্রহণ করে?
- A. ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
- B. ১০ এপ্রিল ১৯৭১
- C. ২৬ মার্চ ১৯৭১
- D. ২৫ এপ্রিল ১৯৭১
উত্তর: ১৭ এপ্রিল ১৯৭১
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অস্থায়ী সরকার গঠিত হয় এবং ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় শপথ গ্রহণ করে; স্থানটির নাম রাখা হয় মুজিবনগর। এ সরকারে সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
4. মুক্তিযুদ্ধের সময় সমগ্র যুদ্ধক্ষেত্রকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল?
- A. ৯টি
- B. ১০টি
- C. ১১টি
- D. ১২টি
উত্তর: ১১টি
মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধক্ষেত্রকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়; এর মধ্যে ১০ নম্বর সেক্টর ছিল নৌ-কমান্ডোদের জন্য। এ ছাড়া অধিনায়কদের নামের আদ্যক্ষর অনুসারে তিনটি ব্রিগেড ফোর্স গঠিত হয়—জিয়াউর রহমানের ‘জেড ফোর্স’, খালেদ মোশাররফের ‘কে ফোর্স’ ও কে এম সফিউল্লাহর ‘এস ফোর্স’।
- বিজ্ঞাপন
5. মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?
- A. এম এ রব
- B. এম এ জি ওসমানী
- C. এ কে খন্দকার
- D. জিয়াউর রহমান
উত্তর: এম এ জি ওসমানী
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন কর্নেল (পরে জেনারেল) এম এ জি ওসমানী। লে. কর্নেল এম এ রব ছিলেন চিফ অব স্টাফ এবং গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার ছিলেন ডেপুটি চিফ অব স্টাফ।
6. মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের সর্বোচ্চ খেতাব ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ পেয়েছেন কতজন?
- A. ৪ জন
- B. ৫ জন
- C. ৬ জন
- D. ৭ জন
উত্তর: ৭ জন
মুক্তিযুদ্ধে সর্বোচ্চ বীরত্বের জন্য ৭ জন শহিদ মুক্তিযোদ্ধাকে মরণোত্তর ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাব দেওয়া হয়। মুক্তিযুদ্ধের চারটি বীরত্বসূচক খেতাব ক্রমানুসারে হলো—বীরশ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম, বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক।
7. বাংলাদেশে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয় কোন দিন?
- A. ২১ ফেব্রুয়ারি
- B. ২৫ মার্চ
- C. ১৪ ডিসেম্বর
- D. ১৬ ডিসেম্বর
উত্তর: ১৪ ডিসেম্বর
মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিনগুলোতে অপহৃত ও নিহত শিক্ষক, চিকিৎসক, সাহিত্যিক ও সাংবাদিকদের স্মরণে ১৪ ডিসেম্বর শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়। ঢাকার রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়েছে।
8. ১৯৭১ সালের মার্চে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র প্রথম কোথা থেকে সম্প্রচার শুরু করে?
- A. কালুরঘাট, চট্টগ্রাম
- B. শাহবাগ, ঢাকা
- C. আগরতলা
- D. কলকাতা
উত্তর: কালুরঘাট, চট্টগ্রাম
স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট ট্রান্সমিটার থেকে সম্প্রচার শুরু করে এবং পরে কলকাতা থেকে পরিচালিত হয়। এম আর আখতার মুকুলের উপস্থাপনায় জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘চরমপত্র’ মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল বাড়িয়েছিল।
9. ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ কোন শহরে অনুষ্ঠিত হয়?
- A. লন্ডন
- B. নিউইয়র্ক
- C. কলকাতা
- D. প্যারিস
উত্তর: নিউইয়র্ক
জর্জ হ্যারিসন ও পণ্ডিত রবিশঙ্করের উদ্যোগে নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে শরণার্থীদের সহায়তায় অর্থ সংগ্রহ করা হয় এবং একে প্রথম বড় আন্তর্জাতিক দাতব্য কনসার্টগুলোর একটি ধরা হয়।
10. ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণের দলিল কোথায় স্বাক্ষরিত হয়?
- A. পল্টন ময়দান
- B. ঢাকা সেনানিবাস
- C. রেসকোর্স ময়দান (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান)
- D. বঙ্গভবন
উত্তর: রেসকোর্স ময়দান (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান)
ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে লে. জেনারেল এ এ কে নিয়াজি ভারত-বাংলাদেশ যৌথ বাহিনীর পক্ষে লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকার; ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস হিসেবে পালিত হয়।