প্রাচীন ও মধ্যযুগের বাংলা: পাল থেকে নবাবি আমল: প্রশ্ন ও উত্তর
প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা পড়ুন।
1. অষ্টম শতকের মাঝামাঝি বাংলায় পাল বংশের প্রতিষ্ঠা করেন কে?
- A. ধর্মপাল
- B. দেবপাল
- C. গোপাল
- D. প্রথম মহীপাল
উত্তর: গোপাল
অষ্টম শতকের মাঝামাঝি দীর্ঘ অরাজকতা বা ‘মাৎস্যন্যায়’ অবসানের জন্য স্থানীয় প্রধানরা গোপালকে রাজা নির্বাচন করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত বৌদ্ধ পাল বংশ প্রায় চার শতাব্দী বাংলা ও বিহার শাসন করে।
2. পাহাড়পুরের সোমপুর মহাবিহার কোন পাল রাজা নির্মাণ করেন?
- A. ধর্মপাল
- B. গোপাল
- C. দেবপাল
- D. রামপাল
উত্তর: ধর্মপাল
গোপালের পুত্র ধর্মপাল অষ্টম শতকের শেষভাগে বর্তমান নওগাঁ জেলায় সোমপুর মহাবিহার নির্মাণ করেন। তিনি বিহারে বিক্রমশীলা মহাবিহারও প্রতিষ্ঠা করেন, যা ছিল বৌদ্ধ শিক্ষার আরেকটি বড় কেন্দ্র।
3. ত্রয়োদশ শতকের শুরুতে বখতিয়ার খলজি নদিয়া আক্রমণ করলে কোন সেন রাজা পালিয়ে যান?
- A. বিজয় সেন
- B. বল্লাল সেন
- C. হেমন্ত সেন
- D. লক্ষ্মণ সেন
উত্তর: লক্ষ্মণ সেন
আনুমানিক ১২০৪–০৫ সালে বখতিয়ার খলজির আকস্মিক নদিয়া আক্রমণে লক্ষ্মণ সেন পূর্ববঙ্গে পালিয়ে যান, এবং বিক্রমপুরকেন্দ্রিক সেন শাসন আরও কিছুকাল টিকে থাকে। এই আক্রমণকে প্রচলিতভাবে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা ধরা হয়।
4. প্রচলিত মত অনুযায়ী কোন সেন রাজা বাংলায় কৌলীন্য প্রথা প্রবর্তন করেন?
- A. বিজয় সেন
- B. বল্লাল সেন
- C. লক্ষ্মণ সেন
- D. কেশব সেন
উত্তর: বল্লাল সেন
প্রচলিত মত অনুযায়ী বিজয় সেনের পুত্র বল্লাল সেন কৌলীন্য প্রথা প্রবর্তন করেন, যাতে সামাজিক মর্যাদা অনুযায়ী পরিবারগুলোকে শ্রেণিবদ্ধ করা হতো। ধারণা করা হয়, সেনরা মূলত দক্ষিণ ভারতের কর্ণাট অঞ্চল থেকে আসেন এবং বিজয় সেন বাংলায় তাঁদের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন।
- বিজ্ঞাপন
5. ১৩৩৮ সালে সোনারগাঁয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করে বাংলায় স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনা করেন কে?
- A. শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ
- B. ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
- C. আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
- D. গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ
উত্তর: ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ
ফখরুদ্দিন মুবারক শাহ ১৩৩৮ সালে সোনারগাঁয়ে দিল্লি সালতানাত থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন, যার মধ্য দিয়ে প্রায় দুই শতাব্দীর স্বাধীন সুলতানি যুগ শুরু হয়। পরে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ ১৩৫২ সালে সমগ্র বাংলাকে ঐক্যবদ্ধ করে ‘শাহ-ই-বাঙ্গালাহ’ উপাধি গ্রহণ করেন।
6. বাংলার সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ কোন পারস্য কবির সঙ্গে পত্রালাপের জন্য বিখ্যাত?
- A. হাফিজ
- B. শেখ সাদি
- C. রুমি
- D. ফেরদৌসি
উত্তর: হাফিজ
ইলিয়াস শাহি বংশের সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ শিরাজের কবি হাফিজকে বাংলায় আমন্ত্রণ জানান; কথিত আছে, হাফিজ উত্তরে সুলতানের দরবারের প্রশংসায় একটি গজল পাঠান। এই সুলতান চীনের মিং সম্রাটের সঙ্গেও দূত বিনিময় করেছিলেন।
7. বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদ কে নির্মাণ করেন?
- A. ঈসা খাঁ
- B. শায়েস্তা খান
- C. আলাউদ্দিন হুসেন শাহ
- D. খান জাহান আলী
উত্তর: খান জাহান আলী
পঞ্চদশ শতকে খান জাহান আলী ষাট গম্বুজ মসজিদ নির্মাণ করেন; তিনি বাগেরহাট অঞ্চলে খলিফাতাবাদ নগরী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। নাম ষাট গম্বুজ হলেও মসজিদের ছাদে গম্বুজ আছে ৭৭টি, আর ভেতরে রয়েছে ৬০টি পাথরের স্তম্ভ।
8. ষোড়শ শতকের শেষে মুঘলদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা বারো ভূঁইয়াদের প্রধান নেতা কে ছিলেন?
- A. প্রতাপাদিত্য
- B. কেদার রায়
- C. ঈসা খাঁ
- D. চাঁদ রায়
উত্তর: ঈসা খাঁ
সোনারগাঁকেন্দ্রিক ঈসা খাঁ ছিলেন বারো ভূঁইয়াদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এবং তিনি সম্রাট আকবরের সেনাপতিদের বিরুদ্ধে সফলভাবে লড়াই করেন। তাঁর পুত্র মুসা খাঁ প্রতিরোধ চালিয়ে যান এবং আনুমানিক ১৬১১ সালে সুবাদার ইসলাম খানের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
9. সুবাদার ইসলাম খান কত সালে ঢাকাকে মুঘল বাংলার রাজধানী করে এর নাম রাখেন জাহাঙ্গীরনগর?
- A. ১৬১০
- B. ১৫৭৬
- C. ১৬৬৬
- D. ১৭০৪
উত্তর: ১৬১০
ইসলাম খান চিশতি ১৬১০ সালে ঢাকায় সুবা বাংলার রাজধানী স্থাপন করেন এবং সম্রাট জাহাঙ্গীরের নামানুসারে এর নাম রাখেন জাহাঙ্গীরনগর। পরবর্তীকালে সুবাদার শায়েস্তা খানের আমল সস্তা চালের জন্য কিংবদন্তি হয়ে আছে—কথিত আছে, তখন টাকায় আট মণ চাল পাওয়া যেত।
10. অষ্টাদশ শতকের শুরুতে কে বাংলার রাজধানী ঢাকা থেকে মুর্শিদাবাদে স্থানান্তর করেন?
- A. শায়েস্তা খান
- B. আলীবর্দী খান
- C. মুর্শিদকুলি খান
- D. সিরাজউদ্দৌলা
উত্তর: মুর্শিদকুলি খান
মুর্শিদকুলি খান প্রথমে দেওয়ান এবং পরে নবাব হিসেবে শাসনকেন্দ্র ঢাকা থেকে মকসুদাবাদে সরিয়ে নেন, যার নাম তাঁর নামানুসারে হয় মুর্শিদাবাদ। তাঁর সূচিত নবাবি আমল কার্যত শেষ হয় ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে।