Monster Game

প্রাচীন ভারত: সিন্ধু থেকে গুপ্ত যুগ: প্রশ্ন ও উত্তর

প্রতিটি প্রশ্নের সঠিক উত্তর ও ব্যাখ্যা পড়ুন।

নিজেকে যাচাই করুন
  1. 1. গুজরাটের কোন সিন্ধু সভ্যতার কেন্দ্র ইটে বাঁধানো একটি স্থাপনার জন্য বিখ্যাত, যাকে সাধারণত জাহাজঘাট (ডকইয়ার্ড) বলে মনে করা হয়?

    • A. কালিবঙ্গান
    • B. লোথাল
    • C. বানাওয়ালি
    • D. রাখিগড়ি

    উত্তর: লোথাল

    খাম্বাত উপসাগরের কাছে লোথালে ইটে বাঁধানো একটি বড় জলাধার পাওয়া গেছে, যাকে বেশিরভাগ প্রত্নতত্ত্ববিদ জাহাজঘাট বলে মনে করেন; এটি হরপ্পাবাসীদের সমুদ্রবাণিজ্যের প্রমাণ। গুজরাটের আরেক হরপ্পা নগরী ধোলাভিরা ২০২১ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকায় স্থান পায়।

  2. 2. সিন্ধু সভ্যতার ‘বৃহৎ স্নানাগার’ (গ্রেট বাথ) কোন স্থানে আবিষ্কৃত হয়?

    • A. হরপ্পা
    • B. লোথাল
    • C. কালিবঙ্গান
    • D. মহেঞ্জোদারো

    উত্তর: মহেঞ্জোদারো

    মহেঞ্জোদারোর (বর্তমান পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশ) দুর্গ এলাকায় অবস্থিত বৃহৎ স্নানাগারটি পানিরোধী ইটের তৈরি একটি জলাধার, যা সম্ভবত ধর্মীয় স্নানে ব্যবহৃত হতো। ১৯২১ সালে দয়ারাম সাহনির নেতৃত্বে সর্বপ্রথম খননকৃত সিন্ধু কেন্দ্র হরপ্পার নাম থেকেই এই সভ্যতার আরেক নাম ‘হরপ্পা সভ্যতা’।

  3. 3. গায়ত্রী মন্ত্র কোন বেদে পাওয়া যায়?

    • A. ঋগ্বেদ
    • B. সামবেদ
    • C. যজুর্বেদ
    • D. অথর্ববেদ

    উত্তর: ঋগ্বেদ

    সূর্যদেবতা সবিতার উদ্দেশে রচিত গায়ত্রী মন্ত্র চার বেদের মধ্যে প্রাচীনতম ঋগ্বেদের তৃতীয় মণ্ডলে রয়েছে। ঋগ্বেদ দশটি মণ্ডলে বিভক্ত, আর সামবেদ মূলত গান গাওয়ার উপযোগী করে সাজানো ঋগ্বেদের মন্ত্রের সংকলন।

  4. 4. ভারতের জাতীয় আদর্শবাক্য ‘সত্যমেব জয়তে’ কোন উপনিষদ থেকে নেওয়া?

    • A. কঠ উপনিষদ
    • B. ঈশ উপনিষদ
    • C. মুণ্ডক উপনিষদ
    • D. ছান্দোগ্য উপনিষদ

    উত্তর: মুণ্ডক উপনিষদ

    ‘সত্যমেব জয়তে’ (সত্যেরই জয় হয়) মুণ্ডক উপনিষদ থেকে নেওয়া এবং ভারতের জাতীয় প্রতীকের নিচে দেবনাগরী লিপিতে লেখা থাকে। জাতীয় প্রতীকটি সারনাথের অশোক সিংহস্তম্ভশীর্ষ থেকে গৃহীত।

  5. বিজ্ঞাপন
  6. 5. ‘ইন্ডিকা’ গ্রন্থের রচয়িতা মেগাস্থিনিস কোন শাসকের দূত হিসেবে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের রাজসভায় আসেন?

    • A. আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট
    • B. প্রথম সেলুকাস নিকাটর
    • C. প্রথম দারিয়ুস
    • D. প্রথম অ্যান্টিওকাস

    উত্তর: প্রথম সেলুকাস নিকাটর

    প্রথম সেলুকাস নিকাটর মেগাস্থিনিসকে চন্দ্রগুপ্ত মৌর্যের রাজধানী পাটলিপুত্রে দূত হিসেবে পাঠান; তাঁর ‘ইন্ডিকা’ কেবল পরবর্তী গ্রিক ও রোমান লেখকদের উদ্ধৃতির মাধ্যমে টিকে আছে। রাষ্ট্রনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ক গ্রন্থ ‘অর্থশাস্ত্র’ প্রথাগতভাবে চন্দ্রগুপ্তের উপদেষ্টা কৌটিল্যের (চাণক্য) রচনা বলে গণ্য।

  7. 6. অশোকের কোন শিলালিপিতে কলিঙ্গ যুদ্ধের পর তাঁর অনুশোচনার বর্ণনা আছে?

    • A. ত্রয়োদশ প্রধান শিলালিপি
    • B. প্রথম প্রধান শিলালিপি
    • C. মাস্কির গৌণ শিলালিপি
    • D. সপ্তম স্তম্ভলিপি

    উত্তর: ত্রয়োদশ প্রধান শিলালিপি

    ত্রয়োদশ প্রধান শিলালিপিতে কলিঙ্গ জয়ের (আনুমানিক ২৬১ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) ফলে ঘটা মৃত্যু ও দুর্ভোগের জন্য অশোকের অনুশোচনা এবং যুদ্ধজয়ের বদলে ধম্মবিজয়ের পথে ফেরার কথা লেখা আছে। অশোকের ব্রাহ্মী লিপির পাঠোদ্ধার প্রথম করেন জেমস প্রিন্সেপ, ১৮৩৭ সালে।

  8. 7. ইতিহাসবিদ ভি. এ. স্মিথ কোন গুপ্ত সম্রাটকে ‘ভারতের নেপোলিয়ন’ বলেছেন?

    • A. প্রথম চন্দ্রগুপ্ত
    • B. দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত
    • C. সমুদ্রগুপ্ত
    • D. স্কন্দগুপ্ত

    উত্তর: সমুদ্রগুপ্ত

    উপমহাদেশজুড়ে বহু সফল সামরিক অভিযানের জন্য ভি. এ. স্মিথ সমুদ্রগুপ্তকে এই উপাধি দেন। এসব বিজয়ের বিবরণ তাঁর সভাকবি হরিষেণ রচিত এলাহাবাদ (প্রয়াগ) স্তম্ভলিপিতে লিপিবদ্ধ আছে।

  9. 8. দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের (বিক্রমাদিত্য) রাজত্বকালে কোন চীনা বৌদ্ধ পরিব্রাজক ভারতে আসেন?

    • A. হিউয়েন সাং
    • B. ই-চিং
    • C. সুং ইউন
    • D. ফা-হিয়েন

    উত্তর: ফা-হিয়েন

    ফা-হিয়েন খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতকের গোড়ায়, দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালে, বৌদ্ধ গ্রন্থের সন্ধানে ভারত ভ্রমণ করেন। হিউয়েন সাং আসেন সপ্তম শতকে, হর্ষবর্ধনের রাজত্বকালে, এবং নালন্দায় অধ্যয়ন করেন।

  10. 9. বিহারের নালন্দা মহাবিহারের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সাধারণত কোন শাসককে কৃতিত্ব দেওয়া হয়?

    • A. প্রথম কুমারগুপ্ত
    • B. হর্ষবর্ধন
    • C. ধর্মপাল
    • D. অশোক

    উত্তর: প্রথম কুমারগুপ্ত

    খ্রিস্টীয় পঞ্চম শতকে গুপ্ত সম্রাট প্রথম কুমারগুপ্তকে সাধারণত নালন্দার প্রতিষ্ঠাতা মনে করা হয়; পরে হর্ষবর্ধন ও পাল রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতায় এটি আরও সমৃদ্ধ হয়। ২০১৬ সালে নালন্দার ধ্বংসাবশেষ ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকায় যুক্ত হয়।

  11. 10. ‘আর্যভটীয়’ গ্রন্থের রচয়িতা গণিতবিদ ও জ্যোতির্বিদ আর্যভট কোন যুগের মানুষ?

    • A. মৌর্য যুগ
    • B. কুষাণ যুগ
    • C. সাতবাহন যুগ
    • D. গুপ্ত যুগ

    উত্তর: গুপ্ত যুগ

    আর্যভট গুপ্ত যুগে, ৪৯৯ খ্রিস্টাব্দে ‘আর্যভটীয়’ রচনা করেন; তিনি বলেন পৃথিবী নিজ অক্ষে আবর্তিত হয় এবং পাই-এর অত্যন্ত নির্ভুল মান দেন। ১৯৭৫ সালে উৎক্ষেপিত ভারতের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহের নাম তাঁর সম্মানে ‘আর্যভট’ রাখা হয়।

নিজেকে যাচাই করুন